fbpx

রাসুল সা. নিজ হাতে লাগানো আজওয়া খেজুরের ৮টি বিস্ময়কর তথ্য

মদিনার শরিফের আজওয়া কিনতে ছবিতে ক্লিক করুণ

আজওয়া খেজুর সৃষ্টির বিস্ময়কর ইতিহাস: হযরত সালমান ফার্সী রা. ছিলেন একজন ক্রিতদাস। তার মালিক ছিল একজন ইয়াহুদী। হযরত সালমান ফার্সী রা. যখন মুক্তি চাইল তখন ইয়াহুদী তাকে মুক্তি দিতে আপত্তি জানায়। বারবার বলায় এক অসম্ভব শর্ত জুড়ে দিয়ে তাকে মুক্তি দিতে রাজি হলো।

আসলে রাজি হয়নি। তার উদ্দেশ্য ছিলো এই অসম্ভব শর্তে আটকে তাকে মুক্তি না দেয়া। শর্ত হলো যদি তিনি নির্দিষ্ট অতি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার ইয়াহুদিকে দেন এবং অতি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ত্রিশটি খেজুর গাছ রোপন করার পর তাতে খেজুর ধরে পাকলে তবেই সে মুক্ত হতে পারবে। যা ছিলো সম্পূর্ণ অসম্ভব।

ইয়াহুদি জানতো যে, সালমান ফার্সী রা. এর পক্ষে ৬০০ দিনার যোগাড় করা কঠিন ছিল। আর ৬০০ দিনার যোগাড় করলেও নির্দিষ্ট অতি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে খেজুর গাছ রোপন করে তাতে ফল ধরে ফল পাকানো অনেক সময়ের ব্যাপার।

তাই উপায়ান্তর না দেখে হযরত সালমান ফার্সী রাসুল (সঃ) এর দরবারে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন। রাসুল (সঃ) ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন। তারপর হযরত আলী (রাঃ) কে সাথে নিয়ে গেলেন ইয়াহুদীর কাছে। ইহুদী এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল, এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তাতে ফল ফলাতে হবে। রাসুল (সঃ) দেখলেন যে, ইহুদীর দেয়া খেজুরগুলো সে আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলছে যাতে চারা না গজায়।

রাসুল (সঃ) খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রাঃ) কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফার্সীকে বললেন পানি আনতে। আলী (রাঃ) গর্ত করলে রাসুল (সঃ) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন। বাগানের একদিক থেকে পোড়া কালো দানা রোপণ করতে করতে বাগানের শেষ পর্যন্ত গেলেন। রাসুল (সঃ) সালমান ফার্সীকে এ দির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না। সালমান ফার্সী পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন। বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ। আল্লাহর অশেষ মহিমায় সেই পোড়া খেজুর থেকে চারা গজালো। আর খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেছে। কারণ এই খেজুরের দানাগুলো ছিলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো। তাই এর স্বাদও অনেকটা পোড়া পোড়া। গন্ধও তাই।
এই খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু। আর কেনইবা দামী হবে না? যে খেজুর রাসুলের নিজ হাতে রোপন করা। এই খেজুরের গুণ বর্ণনা করে হাদিস বর্ণিত হয়েছে-
حديث مرفوع) حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ ، أَخْبَرَنَا هَاشِمٌ ، أَخْبَرَنَا عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنِ اصْطَبَحَ كُلَّ يَوْمٍ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً لَمْ يَضُرَّهُ سُمٌّ وَلَا سِحْرٌ ذَلِكَ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ وَقَالَ غَيْرُهُ : سَبْعَ تَمَرَاتٍ
অর্থ: আলী রহ রা. আমির ইবনে সাদ রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খুরমা খাবে, ঐ দিন রাত পর্যন্ত কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না। অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বলেছেন, সাতটি খুরমা। হাদীস নং ৫৩৭৪

আলী (র) আমির ইবন সাদ তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খুরমা খাবে ঐ দিন রাত পর্যন্ত কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না । অন্যান্য বর্ননাকারীগণ বলেছেনঃ সাতটি খুরমা ।সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৩৫৬।

জুমুআ ইবন আব্দুল্লাহ রা. সাদ রা. তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন যে ব্যক্তি প্রত্যাহ সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না।

১. আজওয়া কী?

আজওয়া মদীনায় উৎপন্ন হওয়া এক প্রজাতির খেজুর। ইবনে মুনযির তার লিসানুল আরব গ্রন্থে বলেছেন, আজওয়া খেজুর গাছ সর্বপ্রথম নবীজী সা. নিজ হাতে রোপণ করেন।

সৌদি আরবে উৎপন্ন হওয়া এ প্রজাতির খেজুর গাছ প্রতি বছর ১২ ইঞ্চি করে বড় হয়ে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম গাছগুলোর একটি।

২. কী আছে আজওয়ায়

আজওয়া খেজুরে রয়েছে আমিষ, শর্করা, প্রয়োজনীয় খাদ্য আঁশ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফ্যাট। এ জাতীয় খেজুর ভিটামিন এ, বি সিক্স, সি এবং কে দ্বারা ভরপুর। তাছাড়া আজওয়ায় রয়েছে ক্যারোটিন যা ভিটামিন এ’র একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্যারোটিন চোখের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। এই খেজুরে থাকা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফলেট, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও রিবোফ্লেভিন।

৩. গর্ভকালীন সময়ে আজওয়া

আজওয়া খেজুর গর্ভবতী মায়ের শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যা মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মায়ের স্তনে অতিরিক্ত দুধ উৎপাদনেও আজওয়া বেশ কার্যকরী।

৪. বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে আজওয়া

বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই আজওয়া খেজুর অত্যন্ত উপকারী। এই খেজুর চামড়ার ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে এবং বিভিন্ন চর্মরোগ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৫. আজওয়ার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

আজওয়া খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যা মানসিক চাপ হ্রাস করার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তলপেটের ক্যান্সার ও তলপেটের অন্যান্য ব্যাধি দূর করতে আজওয়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তলপেটের কৃমি মেরে ফেলা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে এই খেজুরের কার্যকারিতা অপরিসীম।

৬. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আজওয়া

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডায়াবেটিস রোগীরাও আজওয়ার আঁশীয় উপাদান থেকে উপকৃত হতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে ও সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি পালন করে একজন ডায়াবেটিস রোগী দিনে ২ থেকে ৩টি খেজুর খেয়ে উপকার পেতে পারে।

৭. আজওয়ায় ক্যালরির পরিমাণ

সাতটি আজওয়া খেজুরে রয়েছে ১২০ ক্যালরি। যাদের প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ টি আজওয়া খেজুর খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের কর্কট রোগ ও রক্ত সঞ্চালনজনিত রোগের ঝুঁকি নিতান্ত কম।

৮. ওজন কমাতে আজওয়া খেজুর

আজওয়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইরন ও ফ্লোরিন। প্রচুর খাদ্য আঁশ সমৃদ্ধ এই খেজুরে রয়েছে চর্বিজাত অম্ল যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। নিয়ম করে প্রত্যহ ৬টি আজওয়া খেজুর খেলে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ উপকার পাওয়া যাবে।

সূত্রঃ – আওয়ার ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *